লক্ষ্মী পুজোয় ট্রেন-এ করে চলে গেলাম খালনা গ্রামে, খালনা ভ্রমণ-এ ঘুরে দেখলাম লক্ষ্মী পুজো

Khalna Lakshmi Puja

খালনা পশ্চিমবঙ্গের এক বিখ্যাত গ্রাম, যেটা লক্ষ্মী পুজোর জন্য বিখ্যাত বলা যেতে পারে। লক্ষ্মী পুজোর সময় প্রচুর মানুষের ভিড় জমে এখানে। কলকাতা যেমন দুর্গা পুজোর জন্য বিখ্যাত, চন্দননগর যেমন জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত, বারাসাত যেমন কালী পুজোর জন্য বিখ্যাত, তেমনি খালনা বিখ্যাত লক্ষ্মী পুজোর জন্য। বিরাট বিরাট এবং সুন্দর সুন্দর লক্ষী ঠাকুর হয় এখানে। এক বছর এলে প্রত্যেক বছর আস্তে ইচ্ছা করবে। এই গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও দুর্দান্ত। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। রাস্তার দুপাশে গাছপালা, ধানক্ষেত, কাশফুল সব মিলেমিশে এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। 

খালনা গ্রামে কি কি দেখবেন ?

যেহেতু এখানে বিরাট বিরাট এবং সুন্দর সুন্দর লক্ষ্মী পুজো হয় তাই এটাই দেখার মূল আকর্ষণ হতে পারে।  তবে এই গ্রামে আছে অনেক প্রাচীন মন্দিরও। আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঘাট বাঁধানো পুকুর, আছে ধানক্ষেত, সবুজে ভরা গাছপালা, পুজোর সময় রাস্তার দুপাশে মাঠে পাবেন কাশফুল। 

Khalna Lakshmi Puja

লক্ষ্মী পুজোর সময় ভিড় জমে এই গ্রামে। খালনা গ্রামের লক্ষ্মী পুজোর ভিড়ের কারণে অটো, টোটো এবং ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। বছরের অনেকটা সময় এখানকার মানুষ লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন ভালোভাবে করার কাজেও ব্যস্ত থাকে। পুজোর অনেক আগে থেকেই চলে প্রস্তুতি। এই খালনা গ্রামের লক্ষ্মী পুজোর প্যান্ডেলের সাথে কলকাতার দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের মিল পাবেন না। যেটা আপনি চন্দননগর বা বারাসাতে জগদ্ধাত্রী পুজো এবং কালীপূজোতে দেখতে পাবেন। 

বেশ কয়েকটা নামকরা লক্ষ্মী পুজো এখানে হয়। যদিও প্রত্যেকটা প্যান্ডেলের ঠাকুর অসাধারণ হয়। তবে যারা দূর থেকে ঠাকুর দেখতে যান তাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কয়েকটা পুজো প্যান্ডেলের নাম বলছি, যেগুলো দেখলে ভালো লাগবে আপনার এবং যেগুলো মোটামুটি বিখ্যাত লক্ষ্মী পুজো আপনার নাগালে থাকবে। খালনা বাজারের আশেপাশে দেখতে পারেন শান্তি সংঘ, কৃষ্ণরায়তলা, আমরা সকল, আমরা সবাই, আনন্দময়ী তরুণ সংঘ এবং কালীমাতা তরুণ সংঘ। এছাড়াও পাশাপাশি আরো কয়েকটা ঠাকুর আছে যেগুলোও খুব ভালো পুজো। যেমন একতা সংঘ, রায় ব্রাদার্স, সিংহবাহিনীতলা প্রভৃতি। 

এই লক্ষ্মী পুজো তিন দিন ধরে হয়। প্রচুর মানুষের ভিড় জমে। তাই মেলাও বসে এই লক্ষ্মী পুজোকে কেন্দ্র করে। এই মেলা অবশ্য লক্ষ্মী ঠাকুর বিসর্জনের পরেও কয়েকদিন থাকে। এই মেলায় যে খাবার পাওয়া যায় সেটা যেহেতু মেলায় বসেই তৈরী হয়, তাই সেসব দেখেও শিখে নিতে পারেন তৈরির পদ্ধতি। এটার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফুচকা তৈরী। সকালের দিকে গেলে হাতে কলমে ফুচকা তৈরী শিখে নিতে পারেন। 

কিভাবে যাবেন খালনা গ্রামে ?

খালনা যেতে গেলে বাগনান পৌঁছাতে হবে। তার জন্য ট্রেন সবথেকে সুবিধাজনক বলেই আমার মনে হয়। নয়তো কলকাতার ধর্মতলা থেকে বাস ধরতে পারেন বাগনান পৌঁছাতে। যদি ট্রেন-এ যান তবে হাওড়া থেকে খড়গপুর, পাঁশকুড়া বা মেদিনীপুর লোকাল ধরে নিতে পারেন। ট্রেন ছাড়ে সাধারণত ১১ থেকে ১৫ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে। ট্রেন ভাড়া ১৫ টাকা। নামতে হবে বাগনান স্টেশন। 

ওভারব্রিজ দিয়ে ১ নম্বর প্লাটফর্মের দিক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে কয়েক পা এগোলেই পাবেন বাগনান বাস স্ট্যান্ড। এখান থেকেই অটো বাস সব পাওয়া যায় খালনা গ্রাম যাবার জন্য। তবে লক্ষ্মী পুজোতে অটো বা টোটোতে যাওয়া ঠিক হবে না, কারণ ওই সময় খালনা লাইব্রেরি মাঠের বেশি যাওয়া যায় না অটো বা টোটোতে। অবশ্য খালনা লাইব্রেরি থেকে খালনা বাজার একটা স্টপ। বাগনান বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস ধরতে পারেন। বাগনান থেকে খালনা হয়ে যে বাসগুলো জয়পুর যায়, তাতেই চেপে বসুন। বাগনান থেকে খালনা বাজার বাস ভাড়া ১৯ টাকা। 

খালনা বাজার নেমে ঠাকুর দেখা শুরু করুন। বাগনান বাজার থেকে কয়েক পা পিছিয়ে এসে শুরু করুন শান্তি সংঘের লক্ষ্মী পুজো দিয়ে। তারপর সোজা রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকবেন। রাস্তার দুপাশেই পেয়ে যাবেন সব বিখ্যাত লক্ষ্মীপুজো প্যান্ডেল। দেখতে দেখতে চলে যাবেন শশ্বান কালী মন্দির পর্যন্ত। তার মধ্যেই পেয়ে যাবেন আমি যে নামগুলো দিয়েছি তার সবকটাই। সবকটাই বেশ ভালো পুজো। শশ্বান কালী মন্দিরের ওখানেই পাবেন খালনা আনন্দময়ী তরুণ সংঘ। ওটা দেখে বেরিয়েই অপেক্ষা করবেন বাস-এর জন্য। ওখান থেকেই পাবেন বাগনান গামী বাস। বাস ধরে পৌঁছে যাবেন বাগনান, ওখান থেকে ট্রেন ধরে আপনার বাড়ির গন্তব্যে। 

মন্তব্যসমূহ